স্টাফ রিপোর্টার: লেখক-সাংবাদিক উজ্জ্বল মেহেদী বলেন, ‘পিঠ যখন দেয়ালে ঠেকে গেছে, তখন আমরা আলোচনায় বসেছি। নগরীর একটি নির্দিষ্ট স্থানকে সিসিটিভির আওতায় এনে প্লাস্টিকমুক্ত করা যায়। যারা আইন ভাঙছেন, তাদেরকে শাস্তি এবং যারা ভালো করছেন তাদের পুরষ্কৃত করার মাধ্যমে একটি মডেল তৈরি করা যেতে পারে।’
পরিবেশ ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি অ্যাডভোকেট গোলাম সোবহান চৌধুরী বলেন, ‘নগরীতে জলাবদ্ধতা ব্যাপকভাবে বাড়ছে গত এক দশকে। বক্স কালভার্ট নির্মাণ করা হয়েছে, ফলে ভিতরে পরিষ্কার করা যাচ্ছে না, প্লাস্টিক বর্জ্য জমে জলাবদ্ধতা বাড়াচ্ছে। সুরমা নদী শুকানে টন টন প্লাস্টিক দেখা যায় তলদেশে। যে চিত্র আমরা দেখছি, তা ভয়াবহ। আইন আছে, কিন্তু এর প্রয়োগ যদি না হয়, তাহলে সমাধান হবে না।’
ইকোলাইনারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রেজাউল কিবরিয়া বলেন, ‘আমরা কী কখনো হিসেব করে দেখেছ আমাদের ব্যবহার্য জিনিসের মধ্যে কত ধরণের প্লাস্টিক আছে? ৭ ধরণের প্লাস্টিক আছে যার মধ্যে কিছু রিসাইক্লিং যোগ্য। সেসবের নতুন প্রজন্মকে জানাতে হবে। এখন একটা জেনারেশন তৈরি করতে হবে, সমন্বিতভাবে যদি আমরা বিদ্যালয়ে ঢুকতে পারি, বাচ্চাদেরকে প্লাস্টিকের প্রভাব নিয়ে শিক্ষিত করতে হবে।’
ক্লিন সিটি সিলেটের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি নাজিব আহমেদ বলেন, ‘আমরা আসলে অসচেতনভাবে নগরীতে বসবাস করছি, ময়লা-আবর্জনা ফেলার ব্যাপারে আমাদের চিন্তা থাকে কীভাবে এটা নদী-নালাতে ফেলতে পারি। প্রতি ওয়ার্ডে ময়লা সংগ্রহের ভ্যান গাড়ির ৫০-১০০ টাকা দেয়ার ব্যাপারেও দেখা যায় এই টাকা বাচিয়ে ময়লা যেখানে সেখানে ফেলা। প্রত্যেককে সচেতন হবে, নাহলে সিটি কর্পোরেশন বা কারো একার পক্ষে সম্ভব নয়। সবাইকে সম্মিলিতভাবে করতে হবে।’
বৈঠকের শুরুতে শুভেচ্ছা বক্তব্যে ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা) সিলেটের সদস্য সচিব আব্দুল করিম কিম বলেন, ‘আমরা প্রত্যাশা করি আইনের সর্বোচ্চ ব্যবহারের এবং সেটা দেখে যারা পরিবেশ দূষণ করি তারা সচেতন হবো। পরিবেশের কাজ বলতে অনেকেই গাছ লাগানো মনে করেন। কিন্তু পরিবেশ আন্দোলনে এসে দেখেছি সবাই গাছ লাগায়, কিন্তু বড় গাছ কেউ রক্ষা করে না। সিলেট মহানগরীকে আমরা বৃক্ষশুণ্য করেছি। প্লাস্টিক দূষণের ব্যাপারটাও তেমন। নগরীর পরিবেশ রক্ষায় সবার কথা বলার প্রয়োজন আর এ জন্য এই গোলটেবিল বৈঠক।’
সিলেট ভয়েসের প্রকাশক সেলীনা চৌধুরী বলেন, ‘সিলেট পূর্ণভূমি ও পরিচ্ছন্ন নগরী হিসেবে পরিচিত। কিন্তু ধীরে ধীরে লক্ষ্য করছি যে সিলেটের পরিবেশের ভারসাম্য বিপর্যয়ের দিকে যাচ্ছে। আজকে সিলেটের সচেতন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা এক হয়েছি প্লাস্টিক দূষণ বিষয়ে আলোচনা করতে। আমাদের নগরীকে রক্ষায় করার জন্য আমাদের প্রত্যেকের উচিত একসাথে হয়ে কাজ করে সিলেটকে সমৃদ্ধির দিকে নিয়ে যাবো।’
সভাপতির বক্তব্যে ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা) সিলেটের আহবায়ক ডা. মোস্তফা শাহজামান চৌধুরী বলেন, ‘আমরা যদি ১০০জন শিক্ষার্থীকে মোটিভেট করতে পারি, তাহলে এই সংখ্যা দ্রুতই হাজার ছাড়াবে। এছাড়াও সিলেট নগরী দোকানের নগরীতে রুপান্তরিত হয়েছে। এসকল দোকানকে মোটিভেট করার উদ্যোগ নিতে হবে প্লাস্টিক ব্যবহার বন্ধে। আমরা হয়তো এর সুফল পাবো না, কিন্তু আমাদের পরবর্তি প্রজন্ম পাবে।
