লন্ডনে সংবাদ সম্মেলন: বর্তমান বিএনপির কার্যক্রম থেকে নিজেদের প্রত্যাহারের ঘোষণা

জালালাবাদ প্রতিদিন ডেস্ক প্রকাশিত: ০৭:৩৮ এএম, ১২ জুন ২০২৬

লন্ডন, ৯ জুন ২০২৬: যুক্তরাজ্যের লন্ডনের হোয়াইটচ্যাপেলে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে ‘জুলাই ২০২৪-এর পক্ষের জাতীয়তাবাদী শক্তি ইউকে’-এর নেতৃবৃন্দ বর্তমান বিএনপির রাজনৈতিক কার্যক্রম থেকে নিজেদের আপাতত প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নিজামুদ্দীন। তিনি বলেন, তারা দীর্ঘদিন ধরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শে বিশ্বাসী থেকে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। তবে তাদের মতে, বর্তমান বিএনপি সেই জাতীয়তাবাদী আদর্শ, রাজনৈতিক দর্শন এবং গণমানুষের প্রত্যাশা থেকে বিচ্যুত হয়েছে।
লিখিত বক্তব্যে আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনের প্রচেষ্টা, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে অনীহা, গণভোটের ফলাফলকে গুরুত্ব না দেওয়া, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিভিন্ন অধ্যাদেশ বাতিল, গুম ও মানবাধিকারবিষয়ক উদ্যোগ স্থগিত করা এবং ত্যাগী নেতা-কর্মীদের যথাযথ মূল্যায়নে ব্যর্থতার অভিযোগ আনা হয়।
বক্তারা দাবি করেন, আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন ও প্রশাসনে প্রয়োজনীয় সংস্কার না হওয়ার কারণে বিএনপির নেতা-কর্মীরা এখনও নানা ধরনের হয়রানি ও হামলার শিকার হচ্ছেন। একই সঙ্গে তারা বিএনপির অভ্যন্তরে দলীয় কোন্দল বৃদ্ধির অভিযোগও করেন।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বাংলাদেশের বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দীন আহমদের কঠোর সমালোচনা করেন। তারা অভিযোগ করেন, তার নেতৃত্বাধীন একটি গোষ্ঠী বিএনপির আদর্শিক অবস্থান থেকে দলকে বিচ্যুত করছে।
বক্তারা আরও বলেন, ইনকিলাব মঞ্চের প্রধান মুখপাত্র শহীদ শরীফ ওসমান হাদী হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়া বিলম্বিত হচ্ছে। তারা অবিলম্বে এই মামলার বিচার সম্পন্ন করার দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয় যে, দেশের প্রশাসন এখনও আওয়ামী লীগের প্রভাবমুক্ত হয়নি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে এবং বহু বিএনপি নেতা-কর্মী এখনও রাজনৈতিক মামলায় হয়রানির শিকার হচ্ছেন। তাদের মতে, বিদেশে অবস্থানরত অনেক নেতা-কর্মী এখনও দেশে ফিরতে নিরাপদ বোধ করছেন না।
বক্তারা অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মী মামলা প্রত্যাহার ও জামিনের সুবিধা পেলেও বিএনপির বহু নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে পুরোনো মামলা এখনও বহাল রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, বিচারহীনতা, মানবাধিকার, প্রশাসনিক সংস্কার এবং গণতান্ত্রিক সংস্কার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। একই সঙ্গে তারা দাবি করেন, বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে বিএনপির সব নেতা-কর্মীর জন্য দেশ এখনও পুরোপুরি নিরাপদ নয়।
সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বলেন, বর্তমান বিএনপির সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক অবস্থানের সঙ্গে তারা একমত নন। তবে তারা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জাতীয়তাবাদী দর্শন, বেগম খালেদা জিয়ার গণতান্ত্রিক আদর্শ, বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের প্রতি তাদের সমর্থন অব্যাহত রাখবেন।
সংবাদ সম্মেলনের শেষে দেশবাসীর কল্যাণ, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, গণতন্ত্রের বিকাশ এবং ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সকল রাজনৈতিক ও মানবাধিকার সংগঠনের প্রতি দায়িত্বশীল ও গঠনমূলক ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মাওলানা মামুনুর রশীদ, মো. গিয়াস উদ্দিন সোহাগ, রাহেল আহমদ, মোহাম্মদ আব্দুল মালিক, ফজল আহমদ, আব্দুল মুহিত, রফিক আহমদ, মারুফ আহমদ, এম. আশরাফ উদ্দিন, দেলওয়ার হোসেনসহ আরও অনেকে।

আরও পড়ুন