সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার গনিগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ী ও সামাজিক সংগঠন বিজয় সমাজকল্যান সংস্থার সাবেক দপ্তর সম্পাদক নিখোঁজ ফখরুল ইসলাম জয়ের সন্ধানের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (২ জুলাই) দুপুর আড়াইটায় বিজয় সমাজকল্যান সংস্থার আয়োজনে উপজেলার গনিগঞ্জ বাজারে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন গনিগঞ্জ বাজার ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সহসভাপতি আব্দুল ওয়াদুদ।
বিজয় সমাজকল্যান সংস্থার সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুহিবুর রহমান মানিকের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন নিখোঁজ ফখরুলের বাবা মাওলানা বশির আহমদ, বিজয় সমাজকল্যান সংস্থার সাবেক দুই সভাপতি ফরিদ আহমদ ও মনোয়ার হোসেন হিমেল, নির্বাহি সদস্য জিলাল উদ্দিন, শিব্বির আহমদ, ইউপি সদস্য মাহবুব তালুকদার, ব্যবসায়ী সাদ্দাম হোসেন, জাকারিয়া আহমদ, শাহআলম ও সংস্থার সাবেক সহ-সভাপতি ছাব্বির আহমদ।
বক্তারা জানান, গত ২৮ জুন সকালে প্রতিদিনের মত গনিগঞ্জ বাজারে নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ফ্যামাস টেলিকমে আসেন ফখরুল ইসলাম জয়। কিন্তু ওইদিন রাতে আর বাড়ি ফেরেননি ফখরুল। দোকানের সাটার অর্ধেক নামানো অবস্থায় নিখোঁজ হয় সে। এরপর থেকে তার মুঠোফোন বন্ধ রয়েছে।
এদিকে নিখোঁজের পর থেকে আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধবের সাথে যোগাযোগ করেও খোঁজ মেলেনি ফখরুলের। এ বিষয়ে শান্তিগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করা হয়েছে। কিন্তু নিখোঁজের ৫ দিন অতিবাহিত হলেও ফখরুলের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
এ সময় নিখোঁজ হওয়া ফখরুলের মোবাইলফোন ট্র্যাকিং ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ দেখে আগামী ৪৮ ঘন্টার মধ্যে অক্ষত অবস্থায় ফেরত দিতে থানা প্রশাসনকে জানান বক্তারা।
কান্না জড়িত কন্ঠে নিখোঁজ ফখরুলের বাবা বশির আহমদ বলেন, ‘আমার ছেলে ৫ দিন ধরে নিখোঁজ। তার কোনো হদিস পাওয়া যাচ্ছে না। তার জন্য দুশ্চিন্তায় আমাদের পরিবারের সবাই। আমি শান্তিগঞ্জ থানা পুলিশের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি যেন অতি দ্রুত আমার ছেলেকে অক্ষত অবস্থায় আমাদের মাঝে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।’
মুঠোফোনে শান্তিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আকরাম আলী জানান, ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে একটি জিডি করা হয়েছে। নিখোঁজ ফখরুল ইসলামের সন্ধানে থানা পুলিশ কাজ করছে।
মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন বিজয় সংস্থার নির্বাহি সদস্য সিরাজুল আলম, সাবেক অর্থ সম্পাদক হুমায়ুন আহমদ, সদস্য রাসেল আহমদ, সদস্য হুমায়ুন আহমদ, গনিগঞ্জ গ্রামের বাসিন্দা আঞ্জু মিয়া, হাবিবুর রহমান, শাহিনুর রহমান, মজমদার আলী, নুনু মিয়া, ব্যবসায়ী মোস্তফা মিয়া, সালাতুর রহমান, সইদুর মিয়া, জাকারিয়া, আঙ্গুর মিয়া, হাবিজ মিয়া, নুর ইসলাম, সাগর মিয়া প্রমুখ।
