স্টাফ রিপোর্টার: সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসক ও নার্সের অনুপস্থিতিতে বারান্দায় সন্তান প্রসব করেছেন এক প্রসূতি। পরিপূর্ণ সময়ের আগেই জন্ম নেওয়া নবজাতকটি কিছুক্ষণ পর মারা যায়।
বুধবার (২ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে হাসপাতালের গাইনি বিভাগের ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের বারান্দায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। প্রসূতি নারী সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা, ছদ্মনাম সুমি বেগম। তিনি মাত্র পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন।
হঠাৎ প্রসববেদনা ওঠায় পরিবারের সদস্যরা তাকে ওসমানী হাসপাতালে নিয়ে যান। সুমি বেগম জানান, ভর্তি প্রক্রিয়ার সময় বারবার ডাকাডাকি করলেও চিকিৎসক বা নার্স কেউ আসেননি। বাধ্য হয়ে তিনি সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামতে গেলে সেখানেই তার সন্তান প্রসব হয়। পরে এক নার্স তাকে কেবিনে নিয়ে যান।
নবজাতকের মা সুমি বেগম বলেন, “আমার বাচ্চার বয়স ছিল ৫ মাস। অনেক ডাকাডাকি করেছি, অনুরোধ করেছি যেন একজন ডাক্তার বা নার্স এসে আমাকে দেখে। কেউ সাড়া দেয়নি। বাধ্য হয়ে নিচে নামতে যাচ্ছিলাম, তখন সিঁড়িতেই বাচ্চা হয়। পরে শুনি বাচ্চাটা মারা গেছে। ডাক্তাররা যদি তখনই দেখতেন, তাহলে হয়তো এমনটা হতো না।’
বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে চাইলে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. সৌমিত্র চক্রবর্তী বলেন, ‘এখানে চিকিৎসকের অবহেলা হয়নি। প্রসূতি মাত্র পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। লেবার ওয়ার্ডে প্রতিদিন শতাধিক রোগী আসেন। আমাদের তিনটি ডেস্ক রয়েছে। ওই রোগীর ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত এবং তাৎক্ষণিকভাবে প্রসব হয়েছে। তাছাড়া পাঁচ মাসের গর্ভকালীন সময়ে জন্ম নেওয়ায় নবজাতকটি এমনিতেই বাঁচত না, কারণ সে পরিপক্ক ছিল না।’
